টাকার দামে রেকর্ড পতন: ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৯৩ ছাড়াল ডলারের বিনিময় হার

বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে ভারতীয় মুদ্রার মানে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। শুক্রবার লেনদেনের শুরুতেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মান প্রথমবারের মতো ৯৩-এর ঘর অতিক্রম করেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) শেয়ার বাজার থেকে মূলধন তুলে নেওয়ার হিড়িক—এই দুইয়ের জোড়া ফলায় বিদ্ধ হয়েছে ভারতীয় অর্থনীতি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজারের মতো উদীয়মান বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলার বা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। গত এক সপ্তাহে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এই বিশাল পরিমাণ বহিঃপ্রবাহ বা ‘আউটফ্লো’ সরাসরি টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আমদানিকারকদের ডলারের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা টাকার মানকে আরও তলানিতে ঠেলে দিয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতির এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডলারের দাম বাড়ার অর্থ হলো বিদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে ভারতকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হবে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল, ইলেকট্রনিক্স পণ্য এবং ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাজারে ডলার বিক্রি করে টাকার মান ধরে রাখার চেষ্টা করলেও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সামনে তা খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি দ্রুত কার্যকর না হয় এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার স্পর্শ করে, তবে টাকার মান অদূর ভবিষ্যতে ৯৫ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিবিড়ভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করছে। আপাতত আমদানিকারক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দালাল স্ট্রিটের সেনসেক্স ও নিফটির লাল সংকেতেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *