মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। গত ১১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সৌদি আরব থেকে প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘শেনলং’ নামক একটি বিশাল তেলের ট্যাঙ্কার মুম্বাই বন্দরে সফলভাবে নোঙর করেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যখন ইরানি নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং ড্রোন হামলার আশঙ্কায় জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, তখন এই জাহাজটির নিরাপদে পৌঁছানো ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমুদ্রপথের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে বা ‘ডার্ক মোডে’ থেকে সম্ভাব্য হামলা এড়িয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা সম্পন্ন করেছে। ভারত সরকার এবং তেল শোধনাগার কর্তৃপক্ষ এই সফলতাকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মাঝেও জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার একটি বড় জয় হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক তৎপরতা চলাকালীন ইরাকে একটি বড়সড় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। গত ১২ মার্চ, ২০২৬ তারিখে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি ‘KC-135’ রিফুয়েলিং (জ্বালানি ভরার) বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে অংশ নেওয়া এই বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে ভেঙে পড়েছে, তবে এটি শত্রু শিবিরের কোনো হামলার ফল নয়। বিমানে অন্তত পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তাঁদের উদ্ধারে বর্তমানে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে ভারত সরকার ইতিমধ্যে ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে।
