প্রায় তেরো বছর ধরে শয্যাশায়ী অবস্থায় অসহায় জীবন কাটানোর পর অবশেষে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি পেলেন বছর বত্রিশের হরীশ রানা। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বাবা-মায়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে ‘প্যাসিভ ইউথানেসিয়া’র (নিষ্কৃতিমৃত্যু) অনুমোদন দিয়েছে।
চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন হরীশ। ২০১৩ সালের ২০ অগাস্ট রাখিবন্ধনের দিনে এক দুর্ঘটনায় থমকে যায় তাঁর জীবন। যে বাড়িতে তিনি পেইং গেস্ট হিসেবে থাকতেন, সেই বাড়ির পাঁচতলা থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। মাথায় মারাত্মক চোট লাগে। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় প্রাণে বাঁচলেও শরীরের প্রায় সমস্ত অঙ্গ কার্যত অকেজো হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি গুরুতর স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতে ভুগছিলেন।
হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললেও তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। ছেলেকে প্রতিদিন বিছানায় অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তাঁর বাবা-মা। শেষপর্যন্ত ২০২৪ সালে দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন জানান তাঁরা। তাঁদের দাবি ছিল, একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে ছেলেকে প্যাসিভ ইউথানেসিয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।
তবে সেই সময় দিল্লি হাই কোর্ট তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তখনও আদালত আবেদন গ্রহণ করেনি এবং নির্দেশ দেয়, হরীশকে বাড়িতেই রেখে চিকিৎসকেরা নিয়মিত তাঁকে পর্যবেক্ষণ করবেন।
কিন্তু তাতেও থামেননি বৃদ্ধ দম্পতি। এদিকে দীর্ঘদিনের চিকিৎসা খরচ বহন করতে করতে আর্থিকভাবে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েন তাঁরা। ২০২১ সালে চিকিৎসার খরচ জোগাতে তাঁদের ১৯৮৮ সাল থেকে থাকা তিনতলা বাড়িটিও বিক্রি করে দিতে হয়। এখন তাঁদের সম্বল কেবল পেনশনের সামান্য টাকা।
অবশেষে ২০২৫ সালে আবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান তাঁরা। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বুধবার তাঁদের আবেদনে সাড়া দিল সুপ্রিম কোর্ট।
