ইনডাসইন্ড ব্যাংকের বহুল আলোচিত ইনসাইডার ট্রেডিং বা অভ্যন্তরীণ লেনদেন সংক্রান্ত তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে ভারতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI)। এই তদন্তের অংশ হিসেবে সংস্থাটি ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রায় ১.৭ টেরাবাইট (TB) সমপরিমাণ ইমেল ডাম্প বা বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে সেবি মূলত এটি নিশ্চিত করতে চাইছে যে, ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জনসমক্ষে আসার আগেই গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য ব্যবহার করে শেয়ার বাজারে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন কি না। এদিকে, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তথা ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি সিইও অরুণ খুরানা তদন্ত প্রক্রিয়ায় সেবির সংগৃহীত এই বিপুল ইমেল ডাম্পে প্রবেশাধিকার বা এক্সেস চেয়ে সিকিউরিটিজ আপিল ট্রাইব্যুনালের (SAT) দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে ট্রাইব্যুনাল তার এই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে যে, তদন্তের এই প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযুক্তকে সংগৃহীত সমস্ত তথ্যে প্রবেশাধিকার দেওয়া হলে তা তদন্তের গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা নষ্ট করতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ইনডাসইন্ড ব্যাংক তাদের ডেরিভেটিভ পোর্টফোলিওতে প্রায় ১৫২৯ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি প্রকাশ করার ঠিক আগে ব্যাংকের পাঁচজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রায় ২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে বড় ধরনের লোকসান এড়িয়েছিলেন বলে সেবি অভিযোগ করেছে। বর্তমানে এই কর্মকর্তারা বাজার থেকে নিষিদ্ধ রয়েছেন এবং তাদের সম্পদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের প্রক্রিয়া চলছে। ১.৭ টেরাবাইটের এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার ভারতের কর্পোরেট জগতের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা এই জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের চিহ্নিত করতে সেবিকে সহায়তা করবে।
ইনডাসইন্ড ব্যাংক ইনসাইডার ট্রেডিং: ১.৭ টেরাবাইট ইমেল ডাম্প সংগ্রহ সেবির, তথ্য পাওয়ার আবেদন খারিজ স্যাট-এ
