আবারও উত্তপ্ত পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত। ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণ ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে দু’দেশের বাহিনী। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ইঙ্গিত দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স’ অনুযায়ী, পাকিস্তান বিশ্বের ১৪তম শক্তিশালী সামরিক শক্তি। অন্যদিকে তালিবান শাসিত আফগানিস্তান রয়েছে ১২১তম স্থানে। সংখ্যার হিসেবে পাকিস্তান অনেক এগিয়ে। তাদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
কিন্তু সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত একটি ‘অসম যুদ্ধ’ (অসমমিতিক যুদ্ধ)-এর উদাহরণ। অর্থাৎ শক্তিতে দুর্বল পক্ষও ভৌগোলিক সুবিধা ও গেরিলা কৌশল ব্যবহার করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। দক্ষিণ হিন্দুকুশ ও সুলেমান পর্বতের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল পাকিস্তানি সেনার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
পাকিস্তান নির্ভর করছে মার্কিন এফ-১৬ ও চিনা জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের উপর। তবে ইতিহাস বলছে, এই পাহাড়ি অঞ্চলে আকাশ হামলা সব সময় কার্যকর হয়নি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকাও অতীতে আফগানিস্তানে সফল হতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তালিবানের হাতে এখন আধুনিক অস্ত্র রয়েছে এবং পাহাড়ের উঁচু অবস্থান তাদের বড় সুবিধা দিচ্ছে। যদি পাকিস্তান স্থল অভিযান শুরু করে, তবে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও এই সংঘর্ষের ফল কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
পাকিস্তান বনাম আফগানিস্তান: শক্তিতে এগিয়ে ইসলামাবাদ, তবু ‘অসম যুদ্ধে’ অনিশ্চিত ফল
