সোনার দামে ওঠানামা অব্যাহত, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ‘বাই দ্য ডিপ’ স্ট্র্যাটেজি অনুসরণে

দীপাবলির পর থেকেই সোনার দামে ব্যাপক ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল দুই-ই বাড়িয়েছে। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ১০ গ্রাম সোনার দাম সর্বোচ্চ থেকে ৭,০০০ টাকারও বেশি কমেছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বাজার বিশেষজ্ঞরা ‘বাই দ্য ডিপ’ স্ট্র্যাটেজি অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছেন, অর্থাৎ দাম পড়লে তা কিনে ভবিষ্যতের জন্য ধরে রাখার কৌশল।

গত সপ্তাহে কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ছিল প্রতি ১০ গ্রামে ₹১,২৬,৫০০, যা শুক্রবার সন্ধ্যায় নেমে আসে ₹১,২১,৫১৮-এ। ২২ ক্যারেট সোনার দামও একইভাবে কমে ₹১,২১,০৩০-এ পৌঁছেছে। এই পতনের পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম কমার এই সময়টিকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত, বিশেষ করে যারা সোনা কিনে তা গয়না বা সঞ্চয় হিসেবে রাখতে চান। ‘বাই দ্য ডিপ’ স্ট্র্যাটেজি মূলত এমন সময়ে কার্যকর হয় যখন বাজারে অস্থিরতা থাকলেও মৌলিক চাহিদা স্থিতিশীল থাকে।

অর্থনীতিবিদ ড. সৌরভ সেন বলেন, “সোনার দাম কমার পেছনে সাময়িক কারণ কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত। যারা ধৈর্য ধরে রাখতে পারেন, তাঁদের জন্য এখনই সঠিক সময়।”

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, গয়না কেনার সময় অতিরিক্ত জিএসটি ও মেকিং চার্জ হিসেব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, কারণ এগুলো মোট খরচকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

বাংলাদেশেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে বাজুস (বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন) গত কয়েক মাসে ৪২ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে। ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম বর্তমানে ১,৭০,৫৫১ টাকা, যা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত হয়েছে।

সোনার বাজারে এই ওঠানামা আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, বাজার পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করতে এবং হঠাৎ দাম বৃদ্ধির আশায় অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *