দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সীমান্তে ৮,০০০ সেনা মোতায়েন ও সিসিটিভি নজরদারি: ত্রিপুরা সরকার

আগরতলা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরা সরকার নিরাপত্তা জোরদার করতে বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ৮,০০০ সেনা মোতায়েন করেছে এবং একাধিক স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবকালীন সময়ে সীমান্ত এলাকায় যেকোনও ধরনের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান বা অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ত্রিপুরা পুলিশের ডিজি অমিতাভ রঞ্জন জানান, সীমান্তবর্তী ৮টি জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত চৌকিগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে যৌথ টহলদারি চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “উৎসবের আনন্দ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি।”

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে ২৪ ঘণ্টার নজরদারি চালাতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। পূজামণ্ডপ, জনসমাগমস্থল, এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।

ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে পূজা কমিটিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নিরাপত্তা বিধি মেনে চলেন এবং যেকোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করেন। মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সাহা বলেন, “ত্রিপুরা শান্তির রাজ্য। আমরা চাই দুর্গাপূজা আনন্দের সঙ্গে হোক, কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস নয়।”

উল্লেখ্য, ত্রিপুরা রাজ্যের ৮টি জেলা বাংলাদেশ সীমান্তের সংস্পর্শে রয়েছে, যার মধ্যে কিছু অঞ্চল অতীতে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের জন্য পরিচিত ছিল। তাই উৎসবের সময় এই এলাকাগুলিতে বাড়তি নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

ত্রিপুরা পুলিশ ও প্রশাসনের এই প্রস্তুতি রাজ্যবাসীর মধ্যে আশ্বাস ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজ থাকলেও, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক না রাখতে বদ্ধপরিকর সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *