জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, অভিনেতা ও সমাজকর্মী জুবিন গার্গের আকস্মিক মৃত্যুতে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক পরিসরে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মণিপুর, নাগাল্যান্ডসহ গোটা অঞ্চলে শোকপ্রকাশের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক শোকবার্তায় বলেন, “জুবিন গার্গ শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন অসমের আত্মার প্রতিচ্ছবি। তাঁর সৃষ্টিতে আমরা আমাদের সংস্কৃতি, ভাষা ও আবেগকে খুঁজে পেতাম।” মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা বলেন, “উত্তর-পূর্বের সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক ছিলেন জুবিন। তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।”
সাহিত্যিক হরেন্দ্রনাথ বরুয়া, নবকান্ত বরুয়ার পুত্র এবং বিশিষ্ট কবি, বলেন, “জুবিনের গান ছিল কবিতার মতো—যেখানে শব্দের গভীরতা ও সুরের আবেগ মিলেমিশে যেত। তাঁর অনুপস্থিতি আমাদের সাংস্কৃতিক পরিসরে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করবে।”
তরুণ লেখক ও শিল্পীরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁর স্মৃতিচারণে ব্যস্ত। “মায়াবী হৃদয়”, “তুমি মোর জীবন”, “লাল লিপষ্টিক”—এই গানগুলো শুধু বিনোদন নয়, প্রজন্মের আবেগের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল। তাঁর গান, অভিনয় ও সমাজসেবামূলক কাজ তাঁকে উত্তর-পূর্বের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন দিয়েছে।
গুয়াহাটি, শিলং, আগরতলা, ইম্ফল, আইজলসহ বিভিন্ন শহরে তাঁর স্মরণে মোমবাতি মিছিল, সংগীতানুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অসম সাহিত্য সভা, অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (AASU), এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন তাঁর স্মৃতিতে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেছে।
জুবিন গার্গের মৃত্যু উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক পরিসরে এক যুগের অবসান ঘটাল। তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি যেমন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন, তেমনি তাঁর বিদায়ে গোটা অঞ্চল আজ একত্রে শোকাহত। তাঁর স্মৃতি, গান ও আদর্শ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
