মিজোরামে কেন্দ্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষিত প্রকল্প (CSS) এর অধীনে নিযুক্ত ১৫,০০০-এর বেশি কর্মচারী রাজ্য সরকারের অধীনে চাকরি নিয়মিতকরণের দাবিতে ১৬ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে অংশ নেন। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় অল মিজোরাম CSS এমপ্লয়িজ কো-অর্ডিনেশন কমিটি (AMCECC)।
AMCECC-এর সাধারণ সম্পাদক ভানলালপেকা জানান, আইজলসহ রাজ্যের সমস্ত জেলা সদর ও গুরুত্বপূর্ণ শহরে CSS কর্মচারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের দাবি, ২০২৪ সালের ১৮ জুনে ঘোষিত “মিজোরাম CSS কর্মচারী নিয়মিতকরণ প্রকল্প” দ্রুত কার্যকর করতে হবে এবং স্বাস্থ্য দপ্তরে CSS স্কিমের আওতায় সাময়িকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩১ জন কর্মীর নিয়োগ বাতিল করতে হবে।
কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সরকার গত বছরের অক্টোবরে একটি অফিস মেমোরান্ডাম জারি করে নিয়মিতকরণের জন্য যে শর্তাবলি নির্ধারণ করেছে, তা বাস্তবায়নযোগ্য নয় এবং প্রকৃতপক্ষে নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেক CSS কর্মচারী ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করছেন, কিন্তু এখনও তাঁদের চাকরি স্থায়ী হয়নি।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে CSS কর্মচারীরা কলম ও সরঞ্জাম ফেলে ধর্মঘট পালন করেন এবং ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের গণ ছুটি নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
মিজোরামের স্বাস্থ্য সচিব ও সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মুখ্য সচিব এইচ লালেংমাওইয়া জানান, সরকার CSS কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, শুধুমাত্র সেই কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ সম্ভব, যাঁরা বিজ্ঞাপন ও খোলা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ CSS কর্মচারী, বিশেষ করে National Health Mission (NHM) ও Sarva Shiksha Abhiyan (SSA)-এর অধীনে নিযুক্ত কর্মীরা যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, যা সংবিধানের ১৪ ও ১৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
AMCECC-এর নেতারা দাবি করেছেন, তাঁদের নিয়োগ অবৈধ বা ‘ব্যাকডোর’ পদ্ধতিতে হয়নি। ভানলালপেকার মতে, বর্তমানে ১৬টি দপ্তরে CSS কর্মচারীর সংখ্যা ১৫,০০০-এর বেশি, যার মধ্যে স্কুল শিক্ষা দপ্তরে ৫,৩০০-এর বেশি এবং স্বাস্থ্য দপ্তরে ৩,০০০-এর বেশি কর্মচারী রয়েছেন।
এই আন্দোলন মিজোরামে CSS কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও চাকরি নিরাপত্তার সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। সরকার ও কর্মচারীদের মধ্যে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
