মুম্বই, ১১ সেপ্টেম্বর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ৫০% শুল্ক আরোপের ফলে ভারতীয় গৃহস্থালি বস্ত্র শিল্পে চলতি অর্থবছরে ৫–১০ শতাংশ রাজস্ব হ্রাস ঘটতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ক্রিসিল রেটিংস। সংস্থাটি ৪০টি গৃহস্থালি বস্ত্র প্রস্তুতকারক সংস্থার উপর বিশ্লেষণ চালিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যারা শিল্পের মোট আয়ের ৪০–৪৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
ক্রিসিল জানিয়েছে, ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এই শুল্কের ফলে শুধু রাজস্ব নয়, অপারেটিং মুনাফাতেও উল্লেখযোগ্য পতন ঘটবে। গৃহস্থালি বস্ত্র শিল্পের মোট বাজারমূল্য FY25-এ ₹৮১,০০০ কোটি বলে অনুমান করা হয়েছে, যার মধ্যে ₹২৬,০০০ কোটি মার্কিন রপ্তানি থেকে এসেছে।
তবে সংস্থাটি তিনটি মূল কারণকে এই ধাক্কা কিছুটা প্রশমিত করতে সক্ষম বলে মনে করছে—
- এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত অগ্রিম অর্ডার (frontloading) গ্রহণ
- প্রতিযোগী দেশগুলোর (চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক) সীমিত উৎপাদন ক্ষমতা
- বিকল্প রপ্তানি বাজারে (ইইউ, যুক্তরাজ্য) ভারতীয় প্রস্তুতকারকদের প্রবেশ
ক্রিসিলের উপ প্রধান রেটিং কর্মকর্তা মানিশ গুপ্ত বলেন, “ভারতীয় সংস্থাগুলি তুলা-ভিত্তিক গৃহস্থালি বস্ত্র উৎপাদনে এখনও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে। ফলে এই শুল্কের প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব হবে”।
তবে ক্রিসিল সতর্ক করেছে, যেসব সংস্থা তাদের অর্ধেকের বেশি রাজস্ব মার্কিন বাজার থেকে অর্জন করে, তাদের জন্য এই প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। এছাড়া, বিকল্প বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সময় প্রয়োজন হবে এবং চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ে মার্কিন বাজারে চাহিদা হ্রাস ও উচ্চ শুল্কের কারণে অপারেটিং মুনাফা ২০০–২৫০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় গৃহস্থালি বস্ত্র শিল্পের জন্য রপ্তানি বৈচিত্রকরণ, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের কৌশলগত সক্ষমতার উপর।
