আগরতলা, ১৩ জুন: ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার মুঙ্গিয়াকামি আর.ডি. ব্লকের অন্তর্গত কাকড়াছড়া এডিসি ভিলেজের হাজরাপাড়া এস.বি. স্কুল প্রাঙ্গণে “ধরতি আবা জনজাতি গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান”-এর অধীনে এক বিশেষ বেনিফিট স্যাচুরেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে ৪৩ মাইল এলাকার জনজাতি গ্রামবাসীদের জন্য সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়।
এই মহতী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন খোয়াই জেলার জেলা শাসক রজত পন্থ, তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসক পরিমল মজুমদার, জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা তাঁর ভাষণে বলেন, “এই এলাকাটি ত্রিপুরার পিছিয়ে পড়া জনজাতি অঞ্চলগুলির মধ্যে অন্যতম। এখানকার মানুষজন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন শুধুমাত্র উপযুক্ত পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে। আজকের এই মেগা প্রশাসনিক শিবিরের মাধ্যমে বহু মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সরকারি নথি সংগ্রহ করতে পেরেছেন, যা ভবিষ্যতে সরকারি বিভিন্ন স্কিম ও প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।”
শিবিরে উপস্থিত গ্রামবাসীরা যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও পরিচয় সংক্রান্ত পরিষেবা গ্রহণ করেন, তেমনি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরাসরি সমস্যার সমাধান ও দিকনির্দেশনা পান। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই উদ্যোগ ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ ও কৃতজ্ঞতার আবহ লক্ষ্য করা যায়।
এই প্রশাসনিক ক্যাম্পের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সরকারি সেবার সহজলভ্যতা ও প্রশাসনের সরাসরি উপস্থিতি তাদের মনোবল বাড়িয়েছে এবং উন্নয়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এই উদ্যোগ।
