আগরতলা, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ঘোষণা করেছেন যে গত সাত বছরে রাজ্য সরকার ৫,২১৫ জন শিক্ষক নিয়োগ করেছে। তিনি জানান, এই সময়ে মোট ১৯,৮০০ জন সরকারি কর্মচারী বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন, যার মধ্যে শিক্ষক সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
মুখ্যমন্ত্রী, যিনি শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন, বলেন, “সরকারের লক্ষ্য হল সরকারি বিদ্যালয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের জন্য যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করা।” তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্য কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) ব্যবধান কমানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ত্রিপুরা সরকার কর্মচারীদের ৩৩ শতাংশ DA প্রদান করছে, যেখানে কেন্দ্রীয় কর্মচারীরা পাচ্ছেন ৫৫ শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর ২৯ মাসের কার্যকালে তিনি ২৯ শতাংশ DA মুক্তি দিয়েছেন।
শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যকে একটি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে, যার বিষয়ে শীঘ্রই ইতিবাচক খবর পাওয়া যাবে। এছাড়া আমবাসা, কারবুক এবং কাকরাবান এলাকায় তিনটি সাধারণ ডিগ্রি কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে তিনটি মেডিকেল কলেজে ৪০০টি MBBS আসন রয়েছে, যা বাড়িয়ে ৫০০ করার পরিকল্পনা চলছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।
সরকারি কর্মচারীদের অস্থায়ী পদোন্নতি নিয়মিতকরণের বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, এই বিষয়ে আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং শীঘ্রই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে।
এই ঘোষণাগুলি রাজ্যের শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়, যা ত্রিপুরাকে একটি আত্মনির্ভর ও শিক্ষাবান রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
