আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫: ত্রিপুরার কনচনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের টিপরা মোথা পার্টির (TMP) বিধায়ক ফিলিপ কুমার রিয়াং-এর বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতে আগরতলার এমএলএ হোস্টেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল ও ত্রিপুরার প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মার পুত্র পাথিক দেববর্মা-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রিয়াং অভিযোগ করেন, তিনি তাঁর পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত থাকার সময় তিনজন ব্যক্তি তাঁর কোয়ার্টারের সিঁড়ির কাছে এসে তাঁকে বাধা দেন এবং হুমকি দিতে শুরু করেন। তিনি জানান, ওই ব্যক্তিরা তাঁকে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেন এবং বলেন, ৪০০–৫০০ বিজেপি কর্মী এনে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হত্যা করা হবে। এই ঘটনার পর তিনি fellow TMP বিধায়ক বিশ্বজিৎ কলাই-এর কোয়ার্টারে আশ্রয় নিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন।
ঘটনার পরপরই রাজ্য পুলিশের ডিজিপি অনুরাগ ধ্যাংকর, পশ্চিম ত্রিপুরার এসপি নমিত পাঠক এবং বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল এমএলএ হোস্টেল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তরা বিজেপি বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং-এর অতিথি হিসেবে হোস্টেলে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর TMP-র একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানায়। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, হোস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হবে এবং আইন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ত্রিপুরা বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে। তিনি জানান, “আইন নিজের পথে চলবে, এবং যারা আইন ভাঙার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি আশীষ সাহা বলেন, “যেখানে এমএলএ হোস্টেলই নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সরকারকে অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে।”
টিপরা মোথা পার্টি বর্তমানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শরিক এবং ত্রিপুরা উপজাতি স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদে ক্ষমতায় রয়েছে। এই ঘটনার পর দলীয় অন্দরেও চাপ বাড়ছে, যা জোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
