নয়াদিল্লি, ২৩ আগস্ট ২০২৫ — ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় এক ঐতিহাসিক অগ্রগতি ঘটতে চলেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ঘোষণা করেছেন, ফ্রান্সের বিখ্যাত অ্যারোস্পেস সংস্থা সাফরান ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন নির্মাণে অংশ নেবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিন, যা ভারতের ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (AMCA) কর্মসূচির মূল ভিত্তি হবে।
রাজনাথ সিং ‘ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরাম’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “ভারত আজ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নির্মাণের পথে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা ফ্রান্সের সাফরান সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এই ইঞ্জিন ভারতে তৈরি করতে চলেছি”।
এই ইঞ্জিন হবে ১২০ কিলোনিউটন ক্ষমতাসম্পন্ন, যা সুপারক্রুজ, স্টেলথ, সেন্সর ফিউশন এবং উন্নত অ্যাভিওনিক্সের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত যুদ্ধবিমানের জন্য অপরিহার্য। AMCA প্রকল্পের আওতায় ২৫ টন ওজনের টুইন-ইঞ্জিন বিমান তৈরি হবে, যার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ধারণক্ষমতা থাকবে ৬.৫ টন পর্যন্ত।
প্রকল্পটি পরিচালনা করবে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) এবং সাফরান, যেখানে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি ও মেধাস্বত্ব (IPR) ভারতের হাতে হস্তান্তর করা হবে। প্রস্তাবটি শীঘ্রই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির (CCS) অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।
এই যৌথ উদ্যোগের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি শুধু ভারতের আত্মনির্ভরতা বাড়াবে না, বরং ভবিষ্যতে যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন রপ্তানির ক্ষেত্রেও দেশকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাবে। বর্তমানে সাফরান রাফাল যুদ্ধবিমানের M88 ইঞ্জিন তৈরি করে এবং ভারতে হেলিকপ্টার ইঞ্জিন উৎপাদনেও যুক্ত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, AMCA প্রকল্প সফল হলে ভারতের বিমান বাহিনী প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমেরিকার F-35 এবং রাশিয়ার Su-57-এর সমতুল্য বা তার চেয়েও এগিয়ে থাকবে। এই প্রকল্পকে ‘অপারেশন সিন্ধুর’–এর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা পাহালগামে জঙ্গি হামলার পর প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে ভারতের জোরালো পদক্ষেপের প্রতিফলন।
এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করবে, যা দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে।
