ত্রিপুরায় মাদকবিরোধী লড়াইয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত, রাজ্যজুড়ে সতর্কতার আহ্বান

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা রাজ্যজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও জোরদার করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পুনরায় ঘোষণা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে অনুষ্ঠিত ‘Bell of Awareness’ কর্মসূচিতে তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, “মাদকাসক্তি একদিনে হয় না—এটি ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। তাই শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজ্যে মাদক জব্দের হার ১০৩% এবং ধ্বংসের হার ১৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ত্রিপুরা উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। সংক্রমিত ৩,৪৩৩ জন নাগরিককে মাসিক ₹২,০০০ ভাতা প্রদান করছে রাজ্য সরকার।

তিনি বলেন, “ছাত্রজীবনে ভালো-মন্দ প্রভাব থাকে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা এবং প্রয়োজনে শিক্ষকদের জানানো।” শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং খারাপ প্রভাব থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করেন তিনি।

ড. সাহা বলেন, “শুধু সরকার নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক ও এইচআইভি প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগই সফলতা আনবে।” তিনি স্কুল-কলেজে Red Ribbon Club বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং শিশু বিবাহ প্রতিরোধে পাঠ্যক্রমে সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান।

গত তিন বছরে রাজ্যে ১,৬৬৫টি মামলা রুজু হয়েছে এবং ২,৬৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক গাঁজা গাছ ধ্বংস করা হয়েছে। বিশ্রামগঞ্জে ₹১৯৮ কোটি ব্যয়ে একটি বিশেষ ডি-অ্যাডিকশন সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে, এবং রাজ্যের আটটি জেলায় পৃথক কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘নেশামুক্ত ভারত’ অভিযানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ত্রিপুরা সরকার এই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ত্রিপুরাকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজে রূপান্তর করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *