গোলাঘাট, ১২ আগস্ট: অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্তবর্তী উরিয়ামঘাটের থুরিবাড়ি এলাকায় সোমবার রাতে একাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া এবং একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বিতর্কিত এলাকা বেল্ট (ডিএবি) লিফাইন অঞ্চলে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা পাঁচ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালাম আলি নামে এক বাসিন্দার বাড়িতে আগুন লাগে, যেখানে মূল বসতবাড়ি অক্ষত থাকলেও গুদামঘর ও খামারবাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওইদিনই সালাম আলির জমিতে উচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল, এবং তার পরেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফলে অনেকেই সন্দেহ করছেন, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে যাতে নাগা পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থামানো যায়।
ঘটনার পরপরই সীমান্ত ম্যাজিস্ট্রেট, উরিয়ামঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ এবং সিআরপিএফ কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সিআরপিএফের দুই কর্মী শুধুমাত্র নাগা বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অসমীয়াদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই ভিডিও ধারণে বাধা দেন। গ্রামপ্রধানের অভিযোগ, “নাগা পক্ষকে ভিডিও করতে দেওয়া হলেও আমাদের বাধা দেওয়া হয়। এটা অসমের জমি, নাগারা দখল করতে চাইছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি, এক ইঞ্চিও যেন হারানো না হয়।”
জনকপুর, রাণীপুখুরি, কৃষ্ণপুর ও শান্তিপুর—এই চারটি গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষত যেখানে কচারি সম্প্রদায়ের বাস বেশি। স্থানীয়দের মতে, গত বছর থেকেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, এবং এবারকার গুলি ও অগ্নিকাণ্ড সেই পরিকল্পনারই অংশ।
অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আসু) এক নেতা বলেন, “আক্রমণকারী যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাড়িটি উচ্ছেদ করা হয়নি, শুধু নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।”
এই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি উঠেছে। প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
