আগরতলা, ৩০ জুলাই, ২০২৫ – ত্রিপুরার সরকারি দফতরগুলোতে ব্যাপক দুর্নীতি ও “লুটের রাজত্ব” চলছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকার। তিনি এই দুর্নীতির সঙ্গে শাসক দল বিজেপির পাশাপাশি তিপরা মথাকেও যুক্ত বলে দাবি করেছেন। বর্তমান বিদ্যুৎ, সিএনজি, পিএনজি, পানীয় জল ও গোমতী দুধের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে ওরিয়েন্ট চৌমুহনীতে আয়োজিত এক গণঅবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।
মানিক সরকার বলেন, “ত্রিপুরায় বিভিন্ন সরকারি দফতরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্নীতির সমর্থক শব্দই হচ্ছে বিজেপি সরকার। ত্রিপুরায় লুটের রাজত্ব চলছে। তার সাথে তিপরা মথা যুক্ত হয়েছে।” তার অভিযোগ, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট সরকারকে আটকানোর জন্য তিপরা মথা বিজেপিকে “রাস্তা করে দিয়েছিল”। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিপরা মথা অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (ADC) এলাকায় “লুটের রাজত্বে” পরিণত করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক তথা পলিটব্যুরো সদস্য জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মানিক দে সহ অন্যান্য নেতারা। জিতেন্দ্র চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ত্রিপুরাবাসী বুঝতে পারছেন যে আরএসএস পরিচালিত বিজেপি সরকার মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি অভিযোগ করেন, তারা এখনো পর্যন্ত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করেনি, এবং তারা ভেবেছিল কেবল নির্বাচনী ইস্তেহার তৈরি করলেই মানুষ তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্রে বেশি লাভ হয়নি, উল্টো রাজ্যবাসীর উপর একের পর এক ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে বিদ্যুৎ মাশুলের বৃদ্ধির পাশাপাশি জলের বর্ধিত করও বাড়ানো হয়েছে। জিতেন্দ্র চৌধুরী দাবি করেন, বাম সরকার রাজ্যকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা শুরু করেছিল, ২০১৮ সালে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার রাজ্যে আসার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, সিএনজি, পিএনজি, পানীয় জল ও গোমতী দুধের মূল্য আরও বাড়ানো হয়েছে। গ্রাহকদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে স্মার্ট মিটার লাগানোর পদক্ষেপও জনগণের বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন, ত্রিপুরায় ক্ষমতায় আসার জন্য বিজেপি সরকার ২০১৮ এবং ২০২৩ সালে ১০টি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু কোথাও বর্ধিত ট্যাক্সের কথা বলা হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমানে ত্রিপুরায় যেভাবে ট্যাক্স বাড়ানো হচ্ছে, তা অগ্রহণযোগ্য। তার মতে, কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকলেও বিভিন্ন রাজ্যের সমস্যা সমাধান করতে পারছে না, কারণ তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে সরকার সাহায্য করছে না।
মানিক সরকার অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা থেকে জনগণকে বঞ্চিত করছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারি কর্মচারীরা মাসের শেষে বেতন পাচ্ছে না এবং এডিসি এলাকার স্কুল-কলেজগুলো শিক্ষক স্বল্পতায় ভুগছে। তিনি আরও বলেন, এডিসি এলাকার জনগণ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
