নতুন দিল্লি, ২৮ জুলাই ২০২৫ — ভারতের বৃহত্তম আইটি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা তার ৬ লাখেরও বেশি কর্মীর মধ্যে প্রায় ২ শতাংশ বা প্রায় ১২,০০০ কর্মী ছাঁটাই করবে। এই সিদ্ধান্ত আনা হয়েছে কোম্পানির ‘ফিউচার-রেডি’ প্রযুক্তি অভিযোজন ও খাতে আসা পরিবর্তনের কারণে।
তবে টিসিএস কর্মী ও তাদের ইউনিয়নগুলি এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ এবং ‘লাভ সচেতন’ বলেও কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা অভিযোগ করছে, এই ছাঁটাই কর্মীদের প্রতি অবিচারমূলক আচরণ এবং মনগড়া কারণ দেখিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। অনেক কর্মী জানান যে, HR অফিসারদের মুখোমুখি বসে ‘স্বেচ্ছা পদত্যাগ’ করতে বলা হয়েছে, অন্যথায় ছাঁটাই করাই হবে, যা চাপসৃষ্টির প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে।
ইউনিয়নগুলো কোম্পানির এই সিদ্ধান্তকে ‘মানব দুর্ভাবনা’ ও ‘অরক্ষিত কর্মী অধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, শর্ট-টার্ম লাভ আর প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে অজুহাত করে টিসিএস বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করছে, যা কর্মসংস্থান পরিস্থিতি ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য চিন্তার বিষয়।
টিসিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ছাঁটাই তাদের ‘বড় রূপান্তর’ ও ‘কর্মী দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য’ বজায় রাখা উদ্দেশ্যে। তারা দাবি করেছে, যারা ছাঁটাইয়ের আওতায় আসছেন তাদের জন্য উপযুক্ত সেভারেন্স প্যাকেজ, আউটপ্লেসমেন্ট সহায়তা এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে। তবে কর্মী সংগঠন ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবে অনেককেই সেভারেন্স ছাড়াই ছাঁটাই করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং টিসিএস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তারা এই ঘটনার কারণ ও প্রভাব পর্যালোচনা করছে যাতে কর্মসংস্থান রক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
আইটি খাতে মেয়াদী ও বৃহৎ পরিসরে এমন কর্মী ছাঁটাই নতুন নয়, কিন্তু টিসিএসের এই ব্যাপক ছাঁটাই আজকের challenging বাজার ও AI-এর প্রভাবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চাকরির নিরাপত্তা কমার পাশাপাশি কর্মী মনোবল হ্রাস পেতে পারে, যার ফলে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা ও কার্যকরিতায় প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, কোম্পানি ও সরকারী কর্তৃপক্ষ সবসময়সত কার্যত্মক এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিস্থিতি সমাধানে কাজ করবে।
