অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কৈলাসহরের খুচরো ওষুধের দোকান পরিদর্শনে ডেপুটি ড্রাগ কন্ট্রোলার কাঞ্চন সিনহা

কৈলাসহর, ২৪শে জুলাই, ২০২৫: অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধ এবং এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্য জুড়ে অভিযান চালাচ্ছে ত্রিপুরা স্বাস্থ্য দফতর। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার কৈলাসহর শহরের বিভিন্ন খুচরো ওষুধের দোকান পরিদর্শন করেন রাজ্যের ডেপুটি ড্রাগ কন্ট্রোলার কাঞ্চন সিনহা।

পরিদর্শনকালে, কাঞ্চন সিনহা মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তদারকি ও সচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দেন:

১. প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ: ডেপুটি ড্রাগ কন্ট্রোলার প্রতিটি দোকানে নিশ্চিত করেন যে, কোনো পরিস্থিতিতেই যেন চিকিৎসকের বৈধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রি না হয়। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের (antibiotic resistance) মতো ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে অনেক সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাকেও অকার্যকর করে তুলতে পারে।

২. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ কোর্স মানা: রোগীদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করার গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন তিনি। অনেক রোগী সুস্থ বোধ করলেই অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স অসম্পূর্ণ রেখে দেন, যা ব্যাকটেরিয়াকে অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার সুযোগ করে দেয়। ওষুধের দোকানদারদের তিনি এ বিষয়ে রোগীদের সচেতন করার নির্দেশনা দেন।

ডেপুটি ড্রাগ কন্ট্রোলার কাঞ্চন সিনহা জানান, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। এই পরিদর্শনের উদ্দেশ্য হলো, খুচরো বিক্রেতাদের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিদর্শন রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও নিয়মিতভাবে চলবে।

এই অভিযানে ড্রাগ কন্ট্রোল প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও কাঞ্চন সিনহার সাথে উপস্থিত ছিলেন। তারা স্থানীয় ওষুধ বিক্রেতাদের সাথে কথা বলেন এবং অ্যান্টিবায়োটিক সংক্রান্ত নির্দেশিকা ও নিয়মাবলী মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আশা করা হচ্ছে, এই ধরনের ধারাবাহিক উদ্যোগ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং রাজ্যের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও উন্নত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *