হাসিব হামিদ: ইংল্যান্ডের ‘বেবি বয়কট’ আবারও নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন

ম্যানচেস্টার, ২১ জুলাই ২০২৫ — এক সময়ের ইংল্যান্ডের তরুণ প্রতিভা হাসিব হামিদ আবারও আলোচনায়, এবার তাঁর দমবন্ধ করা ক্যারিয়ারকে পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায়। ২০১৬ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ভারতের বিরুদ্ধে রাজকোটে টেস্ট অভিষেকের সময় তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মহলের ‘বয় ওয়ান্ডার’। কিন্তু চোট, ফর্মহীনতা এবং মানসিক চাপের কারণে তাঁর ক্যারিয়ার দ্রুত নিম্নগামী হয়।

প্রথম অধ্যায়: উত্থান ও প্রত্যাশা
ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে মাইকেল অ্যাথারটনের রেকর্ড ভেঙে ১১৯৮ রান করে তিনি ইংল্যান্ড দলে ডাক পান। তাঁর রক্ষণাত্মক ব্যাটিং স্টাইলের জন্য তাঁকে ‘বেবি বয়কট’ বলা হতো। রাজকোটে অভিষেক টেস্টে তিনি ৩১ ও ৮২ রান করেন এবং আলাস্টার কুকের সঙ্গে ১৮০ রানের জুটি গড়েন।

দ্বিতীয় অধ্যায়: পতন ও সংগ্রাম
মোহালিতে আঙুল ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তাঁর দুর্দিন। ল্যাঙ্কাশায়ারে ফর্ম হারিয়ে ফেলেন, ২০১৯ সালে দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর নটিংহ্যামশায়ারে যোগ দেন, যেখানে শুরুতে সংগ্রাম করলেও পরে নিজেকে খুঁজে পান। ২০২১ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টেস্টে ফিরে এলেও অ্যাশেজ সিরিজে ভয়াবহ পারফরম্যান্স তাঁকে আবারও দল থেকে ছিটকে দেয়।

তৃতীয় অধ্যায়: পুনর্জন্ম ও নেতৃত্ব
চোট ও মানসিক চাপ কাটিয়ে হাসিব হামিদ এখন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং স্টাইল গ্রহণ করেছেন, যা ইংল্যান্ডের বর্তমান ‘বাজবল’ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নটিংহ্যামশায়ারের অধিনায়ক হিসেবে তিনি গত মৌসুমে ১০৯১ রান এবং চলতি মৌসুমে ৮৪৮ রান করেছেন, গড় ৭০.৬৬।

তিনি বলেন, “অ্যাশেজ সিরিজে আমরা বেঁচে থাকার জন্য খেলছিলাম, জেতার জন্য নয়। আমি বুঝেছি, সেরা বোলারদের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করাই সঠিক কৌশল।”

আশা ও ভবিষ্যৎ
ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিচালক রব কি-এর সঙ্গে তাঁর কথোপকথনে জানা যায়, তাঁকে ভবিষ্যতে সুযোগ দেওয়া হবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সমর্থন করা হবে। হামিদ বলেন, “আমি পরিবর্তন এনেছি নিজের খেলার ধরনে, কারণ আমি বুঝেছি, প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে না পারলে তারা ভুল করবে না।”

হাসিব হামিদের এই তৃতীয় অধ্যায় শুধু তাঁর ক্যারিয়ারের পুনর্জন্ম নয়, বরং ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রথাগত ব্যাটিংয়ের পুনরাবিষ্কার। তাঁর গল্প প্রমাণ করে, প্রতিভা হারিয়ে গেলেও, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে আবারও ফিরে আসা সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, তিনি আবারও ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে জায়গা করে নিতে পারেন কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *