ত্রিপুরায় বাল্যবিবাহ রোধে বাধ্যতামূলক বিবাহ নিবন্ধনের পরিকল্পনা: একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন

ত্রিপুরা সরকার রাজ্যে বাল্যবিবাহের ক্রমবর্ধমান হার নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিবাহের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপটি বাল্যবিবাহের মতো একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা রাজ্যের বহু নাবালিকা ও তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা (NFHS) অনুযায়ী, ত্রিপুরায় বাল্যবিবাহের হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রিপুরায় প্রায় ৪০.১% মেয়ের ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়, যা সারা ভারতে তৃতীয় সর্বোচ্চ। বিহার (৪০.৮%) এবং পশ্চিমবঙ্গ (৪১.৬%) এর পরেই ত্রিপুরার অবস্থান। জাতীয় গড় ২৩.৩% এর তুলনায় এটি অনেক বেশি। এই পরিসংখ্যান রাজ্যের গ্রামীণ এবং শহরাঞ্চল উভয় ক্ষেত্রেই বাল্যবিবাহের ব্যাপকতা নির্দেশ করে। অনেক ক্ষেত্রে ১২-১৩ বছর বয়সী মেয়েদেরও গর্ভধারণের খবর পাওয়া গেছে, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

বাল্যবিবাহ কেবল একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অল্প বয়সে বিবাহের কারণে মেয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, অপুষ্টি ও শারীরিক জটিলতার শিকার হয় এবং সামগ্রিকভাবে তাদের জীবন ধ্বংস হয়ে যায়। এটি একটি প্রজন্মগত দারিদ্র্যচক্র তৈরি করে এবং নারীর প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি করে।

বাল্যবিবাহ রোধে ত্রিপুরা রাজ্য আইনসেবা কর্তৃপক্ষ এবং ধলাই জেলা আইনসেবা কর্তৃপক্ষ সহ বিভিন্ন সংস্থা সচেতনতামূলক শিবির আয়োজন করছে। এসব শিবিরে বাল্যবিবাহ আইনের বিভিন্ন দিক, এর কুফল এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে। “বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও” কর্মসূচির আওতায়ও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে কন্যা সন্তানদের গুরুত্ব এবং শিক্ষায় তাদের অধিকারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশন, পুলিশ এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষও এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *