শিলং, ১২ জুলাই — কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শুক্রবার মেঘালয়ের রাজভবনে রাজ্যপাল সি.এইচ. বিজয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কর্পোরেট উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (MSME) খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই বৈঠক ছিল ‘বিকসিত ভারত @২০৪৭’ দৃষ্টিভঙ্গির অংশ, যার লক্ষ্য হল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন।
সীতারামন রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উদ্যোক্তা মনোভাবের প্রশংসা করে বলেন, “মেঘালয় তার সম্পদ ও মানবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি উদাহরণ স্থাপন করেছে। MSME খাতের বিকাশ এবং ডিজিটাল আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারি।”
রাজ্যপাল বিজয়শঙ্কর পর্যটন, কৃষিভিত্তিক শিল্প, হস্তশিল্প এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে মেঘালয়ের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি সংযোগ ব্যবস্থার ঘাটতি, প্রতিষ্ঠানিক পরিকাঠামোর দুর্বলতা এবং কেন্দ্র-রাজ্য সংস্থাগুলির মধ্যে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকার ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সমবায় কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি MSME খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স এবং ব্যবসা সহজীকরণের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয় Vibrant Villages Programme, PM Internship Scheme, এবং SASCI প্রকল্পের অধীনে মেঘালয়ে চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে। রাজ্য ইতিমধ্যে ₹৫,৪০০ কোটি SASCI তহবিলের সম্পূর্ণ ব্যবহার করেছে, যা অন্যান্য রাজ্যের জন্য একটি দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেন সীতারামন।
বৈঠকের শেষে রাজ্যপাল অর্থমন্ত্রীকে একটি স্মারক উপহার দেন, যা মেঘালয়ের উষ্ণ আতিথেয়তার প্রতীক। এই সফর কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
