প্রসবের সময় গর্ভবতী মহিলার মৃত্যুতে উত্তপ্ত কাছাড়, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

আসামের কাছাড় জেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ২২ বছর বয়সী রমজানা বেগম নামে এক মহিলার প্রসবকালে মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে কালাইনের সেন্ট্রাল হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। সিজারিয়ান অপারেশনের পর রমজানা এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেও, দ্রুত তার অবস্থার অবনতি হয়। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল তার অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য দেয়নি এবং যোগ্য ডাক্তারের অভাব ছিল। রমজানার শ্বশুর জানান, “তাকে অক্সিজেনে রাখা হয়েছিল, কিন্তু কোনো সঠিক চিকিৎসা করা হয়নি।”

রমজানা ভেন্টিলেটরে আছেন জানার পর পরিবার ও আত্মীয়রা হাসপাতালের কর্মীদের মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শত শত বাসিন্দা হাসপাতালের বাইরে জড়ো হয়ে জবাবদিহিতার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, অযোগ্য ব্যক্তিরা অস্ত্রোপচার করছে।

উত্তেজনার একপর্যায়ে নিহতের এক আত্মীয় হাসপাতালের এক কর্মীকে লাঞ্ছিত করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে। পরে কাটিগোড়া সার্কেল অফিসার ও ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সন্ধ্যা নাগাদ, পুলিশ হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত চারজন ব্যক্তিকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ডাঃ জিডি দেউরি, ডাঃ তাসমিন সুমাইয়া লস্কর, ল্যাব টেকনিশিয়ান আশরাফুল ইসলাম এবং একজন অজ্ঞাত কর্মী। তবে, হাসপাতালের ইনচার্জ ডাঃ সপ্তর্ষি চক্রবর্তীসহ এফআইআরে নাম উল্লেখিত অন্যান্যরা পলাতক।

রমজানা বেগমের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাত ৮:৩০-এর দিকে মৃদু লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিলেও, স্থানীয়রা অবিলম্বে হাসপাতাল বন্ধ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *