নয়াদিল্লি, ৯ জুলাই ২০২৫ — ক্যান্সার চিকিৎসায় সাম্প্রতিক অগ্রগতিগুলি রোগীর জীবনকাল বাড়ালেও, অনেক প্রতিশ্রুতিশীল থেরাপি গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে — যার কারণ এবার স্পষ্ট করল অস্ট্রেলিয়ার ওয়াল্টার অ্যান্ড এলিজা হল ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল রিসার্চ (WEHI)-এর গবেষকরা। গবেষণাটি Science জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, MCL-1 নামক একটি প্রোটিন, যা ক্যান্সার চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু, কেবলমাত্র ক্যান্সার কোষকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে না — এটি স্বাভাবিক কোষে শক্তি সরবরাহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে, যখন MCL-1-কে লক্ষ্য করে তৈরি ওষুধ ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে কাজ করে, তখন তা হৃদপিণ্ড ও যকৃতের মতো উচ্চ-শক্তি চাহিদাসম্পন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে দেখা দেয় গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
গবেষণার প্রধান লেখক ড. কেরস্টিন ব্রিঙ্কম্যান বলেন, “এই আবিষ্কার কোষ-মৃত্যু ও বিপাক প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন চিন্তার দরজা খুলে দিয়েছে — যা এতদিন শুধু অনুমান ছিল, এবার প্রথমবার জীবন্ত প্রাণীতে প্রমাণিত হলো।”
গবেষণাটি নিরাপদ ও লক্ষ্যভিত্তিক থেরাপি তৈরির সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে, যেখানে MCL-1 ইনহিবিটরকে কেবলমাত্র টিউমার কোষে প্রয়োগ করে স্বাভাবিক কোষকে রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। WEHI-এর গবেষক অ্যান্ড্রিয়াস স্ট্রাসার বলেন, “যদি আমরা এই ইনহিবিটরগুলোকে ক্যান্সার কোষে কেন্দ্রীভূত করতে পারি, তাহলে আমরা টিউমার ধ্বংস করতে পারব, অথচ হৃদপিণ্ড বা অন্যান্য অঙ্গের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত না করেই।”
এই গবেষণা কম্বিনেশন থেরাপি ও স্মার্ট ডোজিং কৌশল উন্নয়নে সহায়তা করবে, যা ক্যান্সার চিকিৎসাকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করে তুলতে পারে। গবেষকরা আশা করছেন, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের চিকিৎসা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং রোগীদের জীবনমান উন্নত করবে।
