টি.টি.এ.এ.ডি.সি, বন ও সড়ক পরিকাঠামোর জন্য ১৬তম অর্থ কমিশনের কাছে বিশেষ অনুদান চাইল ত্রিপুরা সরকার

ত্রিপুরা সরকার রাজ্যের আদিবাসী এলাকা, বন সংরক্ষণ এবং সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৬তম অর্থ কমিশনের কাছে বিশেষ অনুদানের আবেদন জানিয়েছে। সোমবার নয়াদিল্লিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জন্য অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায় এই দাবি জানান।

মন্ত্রী বলেন, “ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়া অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টি.টি.এ.এ.ডি.সি)-এর উন্নয়নের জন্য একটি পৃথক অনুদান কাঠামো তৈরি করা জরুরি। এই অঞ্চল রাজ্যের ৭০ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হলেও বাজেটে মাত্র ২.৭ শতাংশ বরাদ্দ পায়।”

তিনি আরও জানান, বর্ষাকালে রেল ও সড়ক যোগাযোগ বারবার ব্যাহত হয়, যার ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় প্রভাব পড়ে। এই প্রেক্ষিতে তিনি সংযোগ পরিকাঠামোর জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান।

ত্রিপুরার ঘন বনাঞ্চল ও পরিবেশগত বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বন ও পরিবেশ খাতে মোট অনুদানের অন্তত ২০ শতাংশ বরাদ্দের আহ্বান জানান। “বন ও পরিবেশ ত্রিপুরার অর্থনীতির মূল স্তম্ভ। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এগুলির গুরুত্ব অপরিসীম,” বলেন তিনি।

এছাড়াও, কৃষি, মৎস্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং পর্যটন খাতে বিশেষ অনুদানের দাবি জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই খাতগুলি রাজ্যের কর্মসংস্থান ও আয়ের মূল চালিকাশক্তি।”

প্রণজিত সিংহ রায় সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের জন্য রাজ্যের ব্যয় বৃদ্ধির কথা জানান এবং এই ব্যয় বিবেচনায় রেখে অর্থ কমিশনের কাছে রাজস্ব ঘাটতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পরিস্থিতির কারণে ত্রিপুরার মেডিকেল ট্যুরিজম, বাণিজ্য ও শক্তি খাতে প্রভাব পড়ছে, যার ফলে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।”

অর্থমন্ত্রী রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি বিস্তারিত রূপরেখা কমিশনের সামনে উপস্থাপন করেন এবং রাজ্যের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *