মায়ানমারে চিন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির সংঘর্ষে মিজোরামে নতুন করে শরণার্থী প্রবাহ

মায়ানমারের চিন রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের জেরে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে নতুন করে শরণার্থীদের ঢল নেমেছে। ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে অন্তত ২৪৫ জন মায়ানমার নাগরিক জোখাওথার সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন।

সংঘর্ষটি মূলত চিন ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (CNDF) এবং চিন ডিফেন্স ফোর্স (CDF)-এর মধ্যে ফালাম টাউনশিপে ঘটে। CNDF-এর সদস্যরা খাওথলির গ্রামে অবৈধ চেকপোস্ট বসিয়ে স্থানীয়দের ফোন পরীক্ষা ও অর্থ আদায় শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে CDF সশস্ত্র প্রতিক্রিয়া জানায়, যার ফলে ব্যাপক গোলাগুলি ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।

এই সংঘর্ষের ফলে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে মিজোরামে আশ্রয় নেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন করে আসা শরণার্থীদের অস্থায়ী আশ্রয় ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যেই রাজ্যে থাকা ৩৫,০০০-এর বেশি মায়ানমার শরণার্থীর সঙ্গে এই নতুন প্রবাহ মিলে ত্রাণ পরিকাঠামোর উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।

চিন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে ঐক্য ভেঙে পড়ায় এবং অস্ত্র পাচার বেড়ে যাওয়ায় ভারত-মায়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। লংতলাই জেলার মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করা অস্ত্রের উৎস মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যুক্ত বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

৫১০ কিমি দীর্ঘ অরক্ষিত সীমান্ত বরাবর চমফাই ও লংতলাই জেলার মাধ্যমে অবাধে চলাচল করছে বিদ্রোহী, অস্ত্র ও শরণার্থীরা। এই পরিস্থিতিতে মিজোরামের কুকি-জো জনগোষ্ঠীর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন এবং প্রতিবেশী মণিপুরের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত সমন্বিত মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ না করা হয়, তবে মিজোরাম ভারতের পূর্ব সীমান্তে একটি স্থায়ী সংকটকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *