মণিপুরে ‘অসাংবিধানিক বাফার জোন’ তৈরির অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনীকে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেস সাংসদের

ইম্ফল, ২ জুলাই ২০২৫ — মণিপুরের ইনার লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ অঙ্গোমচা বিমল আকোজাম রাজ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক তথাকথিত ‘অসাংবিধানিক ও কাল্পনিক বাফার জোন’ কার্যকর করার অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই ব্যবস্থাকে সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন, যা নাগরিকদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার নিশ্চিত করে।

সাংসদ বিমল জানান, ২৯ জুন তিনি বিষ্ণুপুর জেলার ফৌগাকচৌ-ইখাই মাখা লাইকাই কেইথেল বাজার পরিদর্শনে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে সেখানে প্রবেশ করতে বাধা দেয়, যদিও এলাকাটি তাঁর নিজস্ব সংসদীয় কেন্দ্রের অন্তর্গত। তাঁর অভিযোগ, ৬ আসাম রাইফেলস বাহিনী ২০২৩ সালের মে মাসে যে অস্থায়ী বাফার জোন তৈরি করেছিল, তা এখন একপাক্ষিকভাবে মেইতেই জনগণকে লক্ষ্য করে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যেখানে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন।

তিনি বলেন, “একজন নির্বাচিত সাংসদকে নিজের কেন্দ্রের মধ্যে চলাচল করতে বাধা দেওয়া কেবল আমার ব্যক্তিগত অধিকারের লঙ্ঘন নয়, বরং এটি একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে—যেখানে নিরাপত্তার নামে গোপনে সাম্প্রদায়িক বিভাজন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

বিমল আরও অভিযোগ করেন, এই তথাকথিত বাফার জোনের মাধ্যমে মেইতেই সম্প্রদায়কে কৃষিকাজ থেকে বিরত রাখার জন্য পরিকল্পিতভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে ১৬ জুন ইম্ফল পূর্বে এবং ২০ জুন বিষ্ণুপুরের ফুবালায় মেইতেই কৃষকদের ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন।

সাংসদ বিমল সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বলেন, “মণিপুর কোনো সাম্প্রদায়িক মতাদর্শে বিভক্ত নয়। বরং এই ধরনের পদক্ষেপই রাজ্যকে বিভক্ত করছে।” তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অভিযোগ এনে বলেন, সরকার যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বাফার জোনের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে, তবুও বাস্তবে তা কার্যকর করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *