বাচম্যানস্ বান্ডেল পেসিং-এর সাহায্যে সফল চিকিৎসা ত্রিপুরার ৩৩ বছর বয়সী গাড়িচালকের

পূর্ব ভারতের হৃদরোগ চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের (মণিপাল হাসপাতাল নেটওয়ার্কের একটি ইউনিট) ডা. দিলীপ কুমার, সিনিয়র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ও ডিভাইস এবং স্ট্রাকচারাল হার্ট বিশেষজ্ঞ। তিনি পূর্ব ভারতের প্রথম বাচম্যানস্ বান্ডেল পেসিং এবং লেফট বান্ডেল ব্রাঞ্চ এরিয়া পেসিং (LBBAP) যৌথভাবে প্রয়োগ করে সফলতা এনে দিয়েছে। এই সমন্বিত পদ্ধতিকে বলা হয় কমপ্লিট ফিজিওলজিকাল পেসিং।  ত্রিপুরার আগরতলার ৩৩ বছর বয়সী গাড়িচালক রবি (নাম পরিবর্তিত)-র উপর এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা হয়েছিল। তিনি সিক সাইনাস সিনড্রোম এবং ইন্টারমিটেন্ট এট্রিওভেন্ট্রিকুলার (AV) ব্লক এবং প্যারক্সিসমাল অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে ভুগছিলেন, যা মাঝে মধ্যেই হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেতকে আটকে দেয় বা ধীর করে এবং হৃদস্পন্দনকে অনিয়মিত করে দেয়।

ফলে, তার হার্টবিট মাত্র ২৫ প্রতি মিনিটে নেমে গিয়েছিল, যার ফলে সে মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট এবং ঝুঁকিপূর্ণ অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের শিকার হচ্ছিল। ডা. দিলীপ কুমার এবং তাঁর দল সি৩১৫এস৫ ক্যাথেটার ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই ডুয়াল পেসিং পদ্ধতি সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এটি তার হার্টকে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে দেয়।

ডা. দিলীপ কুমার, সিনিয়র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ও ডিভাইস এবং স্ট্রাকচারাল হার্ট বিশেষজ্ঞ বলেন, “কার্ডিয়াক কেয়ার-এর পথপ্রদর্শক হতে পেরে আমরা গর্বিত। এর আগে আমরা প্রায় ২০০টিরও বেশি সিএসপি ফলভাবে সম্পন্ন করেছি। তবে, এটি আমাদের প্রথম কমপ্লিট ফিজিওলজিকাল পেসিং, যা ভারতীয় কার্ডিয়াক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।” এদিকে, রবি বলেন,” দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট এবং নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলাম, ফলে কাজে অসুবিধা হত। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই আমি অনেক ভালো আছি। এখন হাঁটাচলা করতে পারছি, স্বাভাবিকভাবে জীবন কাটাচ্ছি, এর জন্য ডা. দিলীপ কুমার এবং পুরো টিমের কাছে আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *