ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি নিয়ে সরব সুদীপ, চান উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক গঙ্গা প্রসাদ প্রসাইন এবং রেজিস্ট্রার ড. দীপক শর্মার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে চিঠি পাঠিয়েছেন ত্রিপুরার কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। চিঠিতে তিনি অবিলম্বে এই দুই শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অপসারণ এবং বিগত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেনের স্বাধীন ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

চিঠিতে সুদীপবাবু উল্লেখ করেছেন, “ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ঐতিহ্য আজ দুর্নীতির ছায়ায় লজ্জাজনকভাবে ঢাকা পড়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক গঙ্গা প্রসাদ প্রসাইন এবং রেজিস্ট্রার ড. দীপক শর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে স্বজনপোষণ, দুর্নীতি এবং অনৈতিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত করেছেন। তাদের শাসনকালে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে পক্ষপাতিত্ব ও দুর্নীতি প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞাপন ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে এবং বর্তমান উপাচার্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা আইনত প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অধ্যাপক প্রসাইন এবং রেজিস্ট্রার শর্মা আগামী ৮ ও ৯ জুন সমাজবিজ্ঞান, সংস্কৃত ও আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউ ডেকেছেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

সুদীপ রায় বর্মনের অভিযোগ, “গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক নিয়োগে বিস্তর অনিয়ম হয়েছে। যোগ্য স্থানীয় প্রার্থীদের বঞ্চিত করে বাইরের রাজ্য থেকে অযোগ্য ও অযোগ্যতর প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি উপাচার্য নিজেই নিজের ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগ করেছেন, যা সরাসরি স্বজনপোষণের উদাহরণ।”

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং স্থানীয় থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলাও দায়ের হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আরএসএস ও বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সুপারিশে বাইরের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা আরও উদ্বেগজনক।”

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সুদীপ রায় বর্মনের দাবি, “উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে অবিলম্বে বরখাস্ত করে একটি স্বাধীন ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিগত এক বছরে নিয়োগ, চুক্তি স্বাক্ষর ও উচ্চমূল্যের কেনাকাটার সমস্ত বিষয়ে তদন্ত করা হোক। এই দাবি এখন ত্রিপুরার জনগণের জনমত।”

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও সরকার কীভাবে এত বড় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির পাহাড় চুপচাপ সহ্য করতে পারেন? ত্রিপুরার যুবসমাজ, যারা মেধা ও পরিশ্রম নিয়ে চাকরির জন্য লড়াই করছে, তাদের ভবিষ্যৎ কি এমন দুর্নীতির বলি হবে?”

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য বিধানসভাতেও আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সুদীপবাবুর মতে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *