উত্তর পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক (ডোনার) আগরতলা সরকারি ডেন্টাল কলেজের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ২০২ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। সেই সঙ্গে ডেন্টাল কলেজে অতিরিক্ত শূন্য পদ তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বুধবার আগরতলা টাউন হলে আগরতলা সরকারি ডেন্টাল কলেজের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষার ক্ষেত্রে আগরতলা গভর্মেন্ট ডেন্টাল কলেজ একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। আমরা কখনই ডেন্টাল কলেজের কথা ভাবি নি। এমনকি উত্তর পূর্বের অন্যান্য রাজ্যেও নয়। একটি ডেন্টাল কলেজ খোলা সবসময় আমার স্বপ্ন ছিল। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আমরা বহুবার এই বিষয়টি উত্থাপন করেছি। কিন্তু তৎকালীন সরকার এবিষয়ে কখনোই সম্মতি দেয়নি। শেষ পর্যন্ত আমি আইজিএম হাসপাতালের পুরনো ভবনে এই কলেজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই এবং ৯ মাসের মধ্যে আমরা কলেজটি উদ্বোধন করি।
বর্তমানে এই কলেজের আসন সংখ্যা বেড়ে ৬৩ হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ডেন্টাল কলেজের কার্যক্রম তদারকি করি। পিএম-ডিভাইন স্কিমের অধীনে ডেন্টাল কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২০২ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই টেন্ডারের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে আধিকারিক ও প্রকৌশলীদের যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে সমন্বয় করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রাজ্যের জনগণকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আগরতলার স্টেট হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানোর জন্য জেলা হাসপাতালগুলির মান উন্নয়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে কিডনি প্রতিস্থাপনও শুরু হয়েছে। যা রাজ্যের চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আগামীদিনে রাজ্যে লিভার প্রতিস্থাপনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
এছাড়াও আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৯টি সুপার স্পেশালিটি বিভাগ চালু করা হয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ সম্প্রসারনের জন্য ক্রমাগত কাজ করছে সরকার। সেই সঙ্গে একটি হোমিওপ্যাথি কলেজ খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একটি আয়ুর্বেদিক কলেজও প্রতিষ্ঠা করা হবে। আমরা ডেন্টাল কলেজে আরও শূন্যপদ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছি। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব রাজীব দত্ত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা ডাঃ অঞ্জন দাস, ত্রিপুরা মেডিক্যাল এডুকেশনের অধিকর্তা ডাঃ হরপ্রসাদ শর্মা, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডাঃ সঞ্জীব দেববর্মা, ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ শালু রাই সহ অন্যান্য বিশিষ্ট চিকিৎসকগণ।
